• English
  • Mobile
  • ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ৭ মাঘ ১৪২৩
allnewsbd.com


বিদায়ী ভাষণে যা বললেন ওবামা

| আপডেট ২০১৭ জানুয়ারি ১১ ১৩:১৩:৫৩
     
বিদায়ী ভাষণে যা বললেন ওবামা

টানা দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শিকাগোতে বিদায় ভাষণ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম এই নগরী ওবামার প্রেসিডেন্ট পরবর্তী জীবনের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই তিনি তার পরবর্তী জীবন কাটাবেন। ওবামা শিকাগো নগরীতে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন।

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালি হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ও বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বিদায়ী ভাষণে তিনি এ দাবি করেন। এসময় ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার স্ত্রী জিল বাইডেনও উপস্থিত হয়েছেন।

বর্ণবাদ সমস্যা নিরসনে মার্কিন প্রশাসনকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বর্ণবাদ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সমস্যা। তাই এই সমস্যা থেকে কাটিয়ে উঠতে আমাদের খুব বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। ৪৭ বছর বয়সে ক্ষমতায় আসা ওবামার বয়স এখন ৫৫ বছর। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আশা ও প্রত্যাশার শত দ্বার খুলে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হন। এবং ২০১২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন। ২০ জানুয়ারি ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ট্রাম্প। এ সম্পর্কে ওবামা বলেন, দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রে ‘হলমার্ক’।

২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিজয় ভাষণ শিকাগোয় দিয়েছিলেন ওবামা। বিদায় ভাষণও দিলেন সেখানে। তবে নানা নাটকীয়তাপূর্ণ ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের পর ওবামার বিদায় ভাষণ আমেরিকানদের জন্য ভিন্ন মাত্রায় গুরুত্ব বহন করছে। ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যে দ্বিধাবিভক্ত মার্কিন জাতির জন্য দিক নির্দেশনা দিয়েছেন ওবামা।

প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বিদায়ী প্রেসিডেন্টের এ ভাষণ শুনতে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। ওবামার একনিষ্ঠ ভক্তরা আগে থেকেই প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেও টিকিট সংগ্রহ করেছেন। শিকাগো শহর থেকেই ওবামা ২০০৮ এবং ২০১২ সালের নির্বাচনে জয় ঘোষণা করেছিলেন।

বারাক আরো বলেন, পরিবার পরিজনের ভরণপোষণের জন্য একজন মার্কিন নাগরিক যেমন কঠোর পরিশ্রম করেন তেমনি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রতিটি নাগরিককে কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

ওবামা বলেন, সেখান থেকে শুরু করেছিলেন, সেখানে শেষ করতে যান। যে কারণে হোয়াইট হাউসে বিদায় ভাষণ দেননি তিনি। ট্রাম্পের সমর্থকসহ সব মার্কিনির উদ্দেশে মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া প্রেসিডেন্টদের বহনকারী এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে ৪৪৫তম বারের মতো চড়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষবারের মতো শিকাগো গেলেন তিনি।

শিকাগো শহরকে নিজের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘এক সময়ে এই শহরের তরুণ ছেলেটি আজও নিজের অস্তিত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে এবং আজও খুঁজে চলেছে জীবনের মানে আসলে কী।’

প্রায় ২০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় সম্মেলন কেন্দ্র ম্যাককরমিক প্লেস-এ মঙ্গলবার ভাষণ দেন ওবামা। ২০১২ সালের নির্বাচনে মিট রমনিকে হারানোর পর এখানেই ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। ওবামার বিদায় ভাষণ অনুষ্ঠানের টিকিট বিনামূল্যে দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অনলাইনে একেকটি টিকিট ১ হাজার ডলারেও বিক্রি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট বিদায় ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তবে কোথায় বিদায় ভাষণ দেবেন, তা ঠিক করেন প্রেসিডেন্ট নিজেই। ওবামার পূর্বসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বিল ক্লিনটন হোয়াইট হাউসেই বিদায় ভাষণ দেন। কিন্তু জর্জ বুশ সিনিয়র তার বিদায় ভাষণ দেন ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমিতে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নর্স সেন্টার ফর পাবলিক রিসার্চের যৌথ জরিপে বলা হচ্ছে, বিদায় বেলায় ৫৬ শতাংশ মার্কিনির সমর্থন রয়েছে ওবামার প্রতি। বিল ক্লিনটন যখন বিদায় নেন, তখন তার প্রতিও প্রায় একইসংখ্যক মানুষের সমর্থন ছিল।

পাঠকের মতামত:

আজকের সর্বশেষ সংবাদ


রে